আজকের পত্রিকাtitle_li=মাগুরা সদর মাগুরাতে চলছে সার্কাস। হাতি নিয়ে দোকানে দোকানে টাকা তুলছেন মাহুত

মাগুরাতে চলছে সার্কাস। হাতি নিয়ে দোকানে দোকানে টাকা তুলছেন মাহুত

মাগুরানিউজ.কম:

হাতির ভিক্ষাবৃত্তি

মাগুরায় চলছে মাসব্যাপি আনন্দমেলা। সদরের রাউতরায় চলছে এ মেলা। মেলা উপলক্ষে চলছে সার্কাস।

এদিকে মাগুরা শহরে সার্কাসের হাতি নিয়ে চলছে মাহুতের টাকা তোলা, যাকে জনতা বলছেন চাঁদাবাজি। সোমবার মাগুরা শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কের জামরুলতলায় হাতি নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তির এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা হয়। শহরের দোকানে দোকানে হাতির মাধ্যমে টাকা তুলছেন মাহুত (চালক)।

 

হাতি নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে। আমাদের শিল্প-সাহিত্যে হাতি নিয়ে রয়েছে অনেক গান, কবিতা, নাটক, ছবি, গল্প। রয়েছে অনেক প্রাচীন কিসসা-কাহিনীও। হাতিকে বড়ত্বের প্রতীক করে রচিত হয়েছে বহুসংখ্যক প্রবাদ। যেমন, হাতি যেমন খায় তেমনই মলত্যাগ করে, হাতির পাড়া, হাতি মরলেও বাঘের চেয়ে উঁচা থাকে, হাতি মরলেও লাখ টাকা, বউ পালন না হাতি পালন ইত্যাদি।

ভয়ঙ্কর সরীসৃপ তথা ডাইনোর্সরা বিলুপ্ত হয়ে যাবার পর পৃথিবীর স্থলভাগে হাতিই হচ্ছে সর্ববৃহৎ প্রাণী। এসব বৃহদাকার হাতি পাহাড় আর জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় বসবাস করে বিধায় সমতলের মানুষদের কাছে হাতি নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। আর তাই যেখানেই হাতি দেখা যায় সেখানেই জমে মানুষের ভিড়।

এক সময় ছিলো গ্রামে-গঞ্জে সাকার্স পাটি এলে মাহুদরা হাতি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাতির খাবারের জন্য কলাগাছ সংগ্রহ করতো। তখন শহর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনাই ছিলো দেশীয় বা জংলী জাতের কলাগাছের ঝোঁপ। হাতি নিয়ে বাড়ি গেলে মালিকরা আনন্দ সহকারেই কলাগাছ দিয়ে দিতো। হাতি নিজেই শুঁড় দিয়ে কলাগাছ ভেঙ্গে পিঠে করে কিংবা শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতো।

এখন মানুষের বাড়ির আঙ্গিনাও নেই কলাগাছও নেই। হাতির মাহুদরা এখন আর কলাগাছের জন্য বাড়ি বাড়ি যায় না। তারা হাতি নিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে এবং ক্ষুদে যানবাহনের সামনে দাঁড়িয়ে টাকা উঠায়। হাতি দোকানদার ও যানবাহনের ড্রাইভার ও যাত্রীদের নিকট গিয়ে সালাম দিয়ে শুঁড় পেতে দেয়। এই অবস্থায় মানুষ বাধ্য হয়ে হাতিকে টাকা দিয়ে দেয়। কেউ ভয়ে দেয়, কেউ আনন্দে দেয় আবার কেউ দেয় অনেকটা কৌতুহলী হয়ে। মালিকরা হাতির শুরে টাকা দিলে হাতি শুর উচু করে মাহুতকে দেয়।

অনেক সময় ৫/১০ টাকা নিতে চাইনা হাতি। ৫০/১০০ টাকা দাবী করে বসে। না দিলে বা টাকা দিতে দেরি হলে মাহুতের ইশারায় হাতি বিকট আওয়াজ করে । এতে লোকজন ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা দিয়ে দেয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে প্রায়ই হাতি নিয়ে চলছে টাকা তোলা। হাতি দিয়ে টাকা তোলাকে কেউ বলছেন চাঁদাবাজী, কেউ তোলাবাজী, আবার কেউ বলছেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু পৃথিবীর বৃহৎ প্রাণী হিসেবে হাতির জন্য চাঁদাবাজী, তোলাবাজী এবং ভিক্ষাবৃত্তি কোনটাই মানানসই নয়।

হাতি যখন দোকানে দোকানে গিয়ে কিংবা রাস্তার যানবাহনের সামনে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য শুঁড় বাড়িয়ে দেয় তখন অনেকেই বলে থাকেন ঐ দেখো হাতি চাঁদাবাজী করছে। দেশের আইনে চাঁদাবাজী একটি দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু পৃথিবীর এই বৃহৎ প্রাণীটি নিজেও জানে না যে সে কি করছে। মাহুতের নির্দেশে টাকা তোলে আবার মাহুতের হাতে দিয়ে দেয়। কেউ বলছে এটা হাতির চাঁদাবাজী আবার কেউ বলছে এটা মাহুতের চাঁদাবাজী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আগস্ট ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জুলা    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

আগস্ট ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« জুলা    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

রাজনীতি

অর্থনীতি

Categories