আজকের পত্রিকাtitle_li=বাংলাদেশtitle_li=রাজনীতি ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়দের দলীয় পদ ছাড়তে বলেছে বিএনপি- মাগুরা জেলা বিএনপি সভাপতি

ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়দের দলীয় পদ ছাড়তে বলেছে বিএনপি- মাগুরা জেলা বিএনপি সভাপতি

মাগুরানিউজ.কম:

mn

ব্যর্থ ও নিষ্ক্রিয়দের দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বলেছে বিএনপি। ব্যর্থরা নিজে থেকে সরে না দাঁড়ালে যোগ্য ও সাহসীদের নেতৃত্বে আসা নিশ্চিত করতে ‘নিবেদিত ও সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব’ নিতে বলেছে দলটি।

সম্প্রতি এক চিঠিতে দলের মাঠপর্যায়ে এমন নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর এলাকায় প্রতিনিধিদের সম্মেলনের মাধ্যমে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে কমিটি করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি করে দেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের কাছে ৯ আগস্ট তিন পৃষ্ঠার ওই চিঠিটি পাঠানো হয়।

গতকাল যোগাযোগ করা হলে চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতি কবির মুরাদ বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁরা কমিটি পুনর্গঠন করবেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে মাগুরা জেলা বিএনপির কমিটি হয়। ১০১ সদস্যের কমিটির মধ্যে দু-চারজন নিষ্ক্রিয় আছেন বলে জানান তিনি। কবির মুরাদ বলেন, কে নিষ্ক্রিয় তা নির্ণয় করাটা মুশকিল।

‘যোগ্য ও সাহসী নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি’—এমন মন্তব্য করে চিঠিতে বলা হয়, ‘যাঁরা দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদ ও দায়িত্বে থেকে যেকোনো কারণেই ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের নিজেদেরই পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যোগ্যতর ব্যক্তিদের দলের পদ ও দায়িত্ব নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। তাঁরা এই সংগত কাজটি করতে না চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর এলাকার সচেতন, নিবেদিত ও সংগ্রামী নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব হবে দলের স্বার্থেই তাঁদের পরিবর্তে যোগ্যতর, সাহসী নেতা-কর্মীরা যাতে দলের পদ ও দায়িত্ব পান, তা নিশ্চিত করা।

 

দলকে অধিকতর সংগঠিত ও সক্রিয় করা প্রসঙ্গে শিরোনামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ওই চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, আন্দোলনে অনেক নেতা-কর্মীর দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অক্ষমতা, অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতাও লক্ষ করেছি। ভয়ভীতি, ব্যক্তিস্বার্থ, আপসকামিতা আন্দোলন-সংগ্রামকে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁদের এসব কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা সাংগঠনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।

চিঠির মূল বক্তব্যই হলো, যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাঁরা যেন অগ্রাধিকার পান।চিঠিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত অনেক পদধারী নেতার দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, অযোগ্যতা ও অনিচ্ছার পাশাপাশি ভয়ভীতি ও আপসকামিতার উল্লেখ করা হয়। যাঁদের অনেকে দায়িত্ব পালন না করেও পদ ও নেতৃত্ব ধরে রাখারলক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনে বাধা সৃষ্টি করছেন, যোগ্য ও নতুন নেতা-কর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করেদেওয়ার পরিবর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, এমনবিগত আন্দোলনে দলীয়  কর্মসূচিপালনে  নিবেদিত  নেতা-কর্মীদের  নিরুৎসাহিত করেছেন, তাঁদের প্রতি চিঠিতে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ প্রমাণিত, তাঁদের দলের কোনো সক্রিয় পদে কিংবা দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। এসব ব্যক্তির জন্যই মূলত দল ও দলীয় কর্মসূচির প্রতি জনগণের বিপুল সমর্থন থাকার পরও আন্দোলনের তীব্রতা ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে।
দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা ভয়ভীতি, ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে দলের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম, দলের জন্য সময় দিতে পারবেন, নেতা-কর্মীদের দুঃসময়ে পাশে থাকবেন এবং সাহসিকতা ও কৌশলের সঙ্গে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামনে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তেমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দলের সব পর্যায়ের নেতৃত্বে আনতে হবে—এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

কমিটি গঠনের সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সাংসদসহ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনিবার্য কারণে দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন, এমন প্রবীণ ও যোগ্য নেতাদের দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখতে সব পর্যায়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। উপদেষ্টারা সহসভাপতির মর্যাদা ভোগ করবেন। তাঁদের মর্যাদা, গুরুত্ব ও ক্ষমতা দলীয় গঠনতন্ত্রে সংযুক্ত করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« এপ্রি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages