আজকের পত্রিকাtitle_li=মহম্মদপুর মাগুরায় নবগঙ্গা, কুমার, গড়াই ও মধুমতির সংস্কার প্রকল্প ফাইলবন্দিই রইলো

মাগুরায় নবগঙ্গা, কুমার, গড়াই ও মধুমতির সংস্কার প্রকল্প ফাইলবন্দিই রইলো

মাগুরানিউজ.কমঃ
11252588_401467026708838_4220269036183500958_n

মাগুরা জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা, কুমার, গাড়াই ও মধুমতি এই চারটি নদী সংস্কার প্রকল্প তিন বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

সূত্র জানায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে মাগুরার চারটি নদী সংস্কার প্রকল্প ফাইলের মধ্যে লাল সুতোয় বন্দি হয়ে পড়ে আছে। প্রথমদিকে প্রকল্পটি নিয়ে তোড়জোড় থাকলেও এখন নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নাই।

জানা যায়, নদী সংস্কার কাজের জন্য ৬৬ কোটি ৪০ হাজার টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করে মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে এসব নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষের যেমন জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটবে তেমনি রক্ষা পাবে জীববৈচিত্রও।

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে জেলার চারটি নদী সংস্কারের প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে নবগঙ্গা নদীতে শহরের ঢাকা রোড ব্রিজ থেকে কুমার নদের দিকে ছয় কিলোমিটার এলাকা খননের জন্য ২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা, মধুমতির ভাঙ্গন রোধে মহম্মদপুর সদর থেকে কাশিপুর পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ মিটার নদী পাড় নির্মাণের জন্য ২৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদীর বদনপুরে ৩৫০ মিটার পাড় নির্মাণের জন্য ছয় কোটি টাকা ও চৌগাছি এলাকায় এক হাজার ৯০০ মিটার পাড় নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়।

প্রকল্প প্রস্তাবকৃত নদীগুলোর মধ্যে নবগঙ্গা নদী ও কুমার নদের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ দুটি নদ-নদী এখন মৃতপ্রায়। নদী দুটি নাব্যতা হারনোর কারণে এর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে জেগে উঠেছে চর। এসব চরের বিশাল এলাকা জুড়ে চাষ হচ্ছে ধান-পাটসহ বিভিন্ন ফসল। নদীগুলো শুকিয়ে এর প্রশস্ততা ও তলদেশে পালিমাটি জমে গভীরতা কমে গেছে। ফলে বর্ষা ও মৌসুমে পানি উপচে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে।

এক সময় বিশেষত নবগঙ্গা নদীতে বড় বড় স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। এর মাধ্যমে মাগুরার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে নদী দুটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব একেবারে নেই বললেই চলে। এ কারণে নবগঙ্গা নদী খনন করা হলে এ নদীসহ কুমার নদেও পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। আর তার মাধ্যমে নদী দুটি ফিরে পাবে তার পুরোনো গৌরব। সেই সঙ্গে এলাকার মানুষও দুর্ভোগ থেকে প্ররিত্রাণ পাবে।

এ ছাড়া মধুমতি নদীর মহম্মদপুর উপজেলার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। ইতিমধ্যে মধুমতির তীরবর্তী এ উপজেলার অনেক গ্রাম, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের মধুমতির ভাঙ্গনে এসব এলাকার অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব, পরের জমিতে আশ্রিত। কেউ দিনমজুর কিংবা নৌকার মাঝি। অনেকে সহায়সম্বল হারিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র।  বর্তমানে এ এলাকার প্রায় ২০টি গ্রাম তীব্র ভাঙ্গন কবলিত।

অন্যদিকে গড়াই নদীর অনেক এলাকা জুড়েই জেগে উঠেছে চর। এই নদী জেলার শ্রীপুর উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী এলাকার মানুষের জীবন যাত্রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে অনেক স্থানে হেঁটেই পার হওয়া যায়। বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর নদী তীরবর্তী মাগুরার অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর ফলে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমিসহ ঘরবাড়ি বিলীন হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, ভারতের উজান থেকে পানি প্রবাহের সোর্স কমে যাওয়া, ফারাক্কা বাঁধসহ বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ, পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে নদী শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। এ কারণে মাগুরার শুকিয়ে যাওয়া এসব নদীতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে নদী উপচে তলিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী নিম্মাঞ্চল। পানি শুকাতে শুরু করলে নদী ভাঙ্গনও শুরু হয়।

ফলে দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলকার ফসলী মাঠ ঘর বাড়িসহ বিভিন্ন অফিস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া এসব নদী সংলগ্ন বিভিন্ন পার্শ্ববর্তী খালের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম নির্ভরশীল। নদীর নব্যতা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন নৌ চলাচল যেমন ব্যহত হচ্ছে তেমনি অনেক যায়গায় সেচ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে নানা বিপর্যয়।

এসব নদী সংলগ্ন এলাকার মধ্যে মাগুরা সদর, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলা প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। নদীগুলোর সংস্কার কাজ হলে নদী তীরবর্তী এলাকার পানি নিষ্কাশন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, মৎস্য চাষ বৃদ্ধি, বন্যার সময় এলাকাবাসীদের নিজ গৃহে অবস্থান করানো, ফসল রক্ষা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাগুরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর বলেন, ‘মাগুরায় চার নদী সংস্কার অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প। তার পরও এ অঞ্চলের মানুষের সু্বিধার জন্য প্রকল্পটি চালুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডিসেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages