শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ০৪:১১ অপরাহ্ন

শীতে পর্যটকের অপেক্ষায় মাগুরার ভূষণা রাজ্য ও রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ
প্রকাশিত হয়েছে
মাগুরানিউজ.কমঃ

mnরাজীব মিত্র –

রাজা সীতারাম রায়। চারণ কবিরা যাকে নিয়ে গান বেঁধেছিলেন, ‘ধণ্য রাজা সীতারাম, বাংলা বাহাদুর/ যার বলেতে চুরি-ডাকাতি হয়ে গেল দূর/ বাঘ-মানুষে একই সাথে সুখে জল খায়/ রামীশ্যামী পুটলি বাঁধি গঙ্গাস্নানে যায়।’

মোঘলদের বিরুদ্ধে রাজা সীতারামের বীরত্বের ইতিহাস আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। রাজা সীতারাম ছিলেন মুর্শিদাবাদের নবাব সরকারের একজন আমলা। যিনি আমলা থেকে জমিদারি এবং পরে স্বীয় প্রতিভা বলে রাজা উপাধি লাভ করেন।

মাগুরা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে মধুমতি-নবগঙ্গা নদী তীরের জনপদ মহম্মদপুর। এই মহম্মদপুরেই ছিল একটি রাজ্যের রাজধানী। রাজ্যের নাম ছিল ভূষণা (বর্তমান ফরিদপুর-মাগুরা)। এ রাজ্যের রাজা ছিলেন রাজা সীতারাম রায়।

রাজা উপাধি লাভের পর সীতারাম রাজার মতোই রাজ্য বিস্তার করতে থাকেন এবং সেনাবল বৃদ্ধি করে তিনি পার্শ্ববর্তী জমিদারদের ভূ-সম্পত্তি দখল করেন। তিনি নবাব সরকারের রাজস্ব প্রদান বন্ধ করে স্বাধীন, সার্বভৌম রাজার মতোই জমিদারিতে প্রত্যাবর্তন করেন নিজস্ব শাসনব্যবস্থা।

জমিদারি সুরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে সীতারাম এ স্থানটিতে গড়ে তোলেন অসংখ্য দুর্ভেদ্য দুর্গ, কাঁচারি বাড়ি পরিখা পরিবেষ্টিত রাজপ্রাসাদ, পূজা-অর্চনার জন্য দেবালয় নির্মাণ, জনহিতার্থে খনন করেন বেশ কিছু বিশালাকার জলাশয়।

মহম্মদপুরে রাজা সীতারাম রায় নির্মীত অসংখ্য নান্দনিক কারুকার্য খচিত স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রত্নস্থান যা স্থানীয়ভাবে রাজবাড়ী নামে পরিচিত। যা সপ্তদশ-অষ্টদশ শতাব্দীতে পত্তন হওয়া উন্নত এক জনপদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে আজও দেদীপ্যমান।

রাজা নেই, রাজ্য নেই, নেই পাইক-পেয়াদা। হাতিশালে হাতি নেই কিংবা ঘোড়াশালে ঘোড়া। তবু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবই। 

দূর দুরান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীরা নান্দনিক স্থাপনাগুলো দেখতে আসেন।

 

২ Comments on “শীতে পর্যটকের অপেক্ষায় মাগুরার ভূষণা রাজ্য ও রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ

  1. রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ ছবি ও বিষয়বস্তু জানতে পেরে অনেক অভিজ্ঞতা হলো।সংবাদ প্রকাশককে অশেষ ধন্যবাদ। শেখ আমিনুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর, সড়ক বিভাগ, ফেনী। স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম-বরইচারা, ডাকঘর-মালাইনগর, থানা-শ্রীপুর, মাগুরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *