আজকের পত্রিকাtitle_li=বিনোদনtitle_li=সাহিত্য বৃষ্টি আমায় প্রেম সেঁধেছে- খান নয়ন

বৃষ্টি আমায় প্রেম সেঁধেছে- খান নয়ন

মাগুরানিউজ.কমঃ 

mn

দিনের আঁলো এখনও ফুঁটেছে কি না কে জানে! শীতে যবুথবু, কাঁথাটা টেনে গায়ে দিতে এক অদ্ভুত ব্যাপার আবিস্কার করল রুমন। রুমন চোখে মেলে দেখবার চেষ্টা করছে, আঁলোর কোন ছাপ নেই। জীবনের সব ভাললাগা গুলো যেন এক সাথে ধেয়ে আসছে। রুমন ওপাশ হয়ে শুতে চেষ্টা করছে, গভীর ঘুমে আচ্ছান্ন তার দুচোখ। মনের অজান্তে সব ছুটি দিতে মন চাইছে। হয়তো সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, বৃষ্টির প্রখরতা যেন বাড়ছেই…

বন্দনা কে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছে রুমন। আজ সারা শহর রাস্তায় ঘুরব আর বৃষ্টিতে ভিজব। বন্দনার বাড়ীর সামনের রাস্তায় কাঁদা জমে আছে। আমি সব ডিঙ্গিয়ে হাজির। বাড়ীর সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছে বন্দনা। আসমানী রঙ এর শাড়ী বন্দনাকে খুব মানিয়েছে। আবছা গোলাপী রঙ এর ছাতা, আর ওর শ্যামাবর্ণের চেহারা দারুণ মানিয়েছে। কখনও কখনও প্রকৃতিকে হার মানাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। রুমন আর বন্দনা রিস্ক্রায় উঠতে বন্দনা হুড ফেলে ভেজা শুরু করল। আমি ওর বেসামাল কন্ডে খানটিক ঘাঁবড়ে গেলাম। নিজেকে সামলে খুক খুক কাশতে কাশতে বললাম, বন্দনা সত্যি তোমাকে অনেক ভালবাসি তবে তার থেকে তোমার পাগলামী। আমার কথা শুনে বন্দনা হাঁসে, আমি ওর গালে টোল পড়ার অবাক দৃশ্যে আবারও প্রেমে পড়ি।

আঁগারগাও এলাকা দিয়ে রিক্সায় যাচ্ছে রুমন আর বন্দনা। সময় যত যাচ্ছে আকাশ কালো মেঘে ছেঁয়ে আসছে। বন্দনা গুণ গুন করে গাইছে, ‘‘আজি ঝর ঝর বাদল দিনে’’। বন্দনা বলে উঠল, চলো আমরা আজ খিঁচুড়ী খাব। বন্দনা গ্যাষ্ট্রিকে কাতর মানুষ, তবে সুন্দরী নারীরা যখন বাহানা করে তখন রোগ-শোক পালায়। বৃষ্টির দিনে আমার আর বন্দনার প্রিয় জায়গা গুলশান লেক এর পাশে একটা ছাপড়ার দোকানে বিলু মামার চা। বিলু মামার ছাপড়ার চায়ের দোকানে লেক ঘেসে বসবার দারুণ আয়োজন। বিলু মামার চায়ের চেয়ে উনার লজ্জা মাখা হাঁসি আর লেকের নিশ্চুপ নিথর উপভোগ্য পরিবেশ আমাদের আনন্দিত করে।

বন্দনা চল আজ আমরা কাক ভেজা ভিজব। আমার ঠান্ডা বলে কিছু নেই। বন্দনা মুখ ভেংচি খেয়ে বলল ঠান্ডার বাপও তোমাকে ছুঁতে পরবে না। আমি আছি না, সব সময় তোমাকে গরম করে রাখব। আমি ভ্যাঁপাচ্যাকা খেয়ে গেলাম, বন্দনাকে কিছু বলতে পারছি না। সদ্য উনিশ পেরোন সুন্দরীরা মাঝে মাঝে বেসামাল কথাবার্তা বলে। আমি কথা ঘুরিয়ে বন্দনার কাছে জানতে চাইলাম, আচ্ছা কাক ভেজা বৃষ্টি কি? তুমি কি কখনও দেখেছ? বন্দনা বিরক্তির স্বরে বল, কাক ভেজা বৃষ্টিকি জানি না। তবে, অর্ণবের গানে শুনেছি ‘‘ভেজা কাক হয়ে থাক আমার মন’’

আঁষাঢ় মাস আমার এখন খুব বিরক্তির কারণ, সব স্মৃতির আনাগোনা। সত্যি বন্দনা আমি আজ ‘‘ভেজা কাক হয়ে থাক’’ হয়ে বসে আছি। অঝোর ধারাই বৃষ্টি নামছে। তোমার সব সুখ স্মৃতি আমাকে আঁকড়ে ধরেছে। দেখতে দেখতে কতটা দিন দূরারোগ্যব্যাধি তোমাকে কেঁড়ে নিয়েছে আমার কাছ থেকে। জানালা ধরে দাড়িয়ে বৃষ্টি বিলাসী ক্ষণে, পাশের গাছে কাকটাকে ভিজতে দেখে নিজের শীতল মন যে ভিজে একাকার।

রুমন আঁষাঢ়ের বৃষ্টির বন্দনায় গুণ মুগ্ধ চোখে বৃষ্টি দেখছি। রুমনের মনে হল, এই বৃষ্টিই তো আমাকে বারবার বন্দনার সুখ স্মৃতির বন্দনায় ভেজায়। “কেন বৃষ্টি ঝরে যায় নীরবে মনে, কেন আমাকে ভেঁজাও অলসও ক্ষণে”।। বন্দনা জান, তোমার সব ভালবাসা বৃষ্টি আমাকে ফিরিয়ে দেয়। আমি তোমার প্রেমে আঁকড়ে পরে থাকি। সত্যি, আঁষাঢ়ের এই বদলা দিনে বৃষ্টি আমায় প্রেম সেঁধেছে।

সোহানুজ্জামান খান নয়ন

লেখক ও সাংবাদিক

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

রাজনীতি

অর্থনীতি