আজকের পত্রিকাtitle_li=বিনোদন ধন্যবাদ বাবা! ভালবাসি তোমাকে- সোহানুজ্জামান খান নয়ন

ধন্যবাদ বাবা! ভালবাসি তোমাকে- সোহানুজ্জামান খান নয়ন

মাগুরানিউজ.কমঃ

unnamed
আজ বিশ্ব বাবা দিবস! আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। এই দিনটি ঘিরে সকল সন্তানদের কত্তশত আয়োজন। আমিও এই আয়োজনের বাইরে নয়। গভীর রাত, বাবাকে ঘিরে সব সুখ স্মৃতি চোখের পাতায় অম্লান। এমন দিনে বাবাকে নিয়ে লিখব না, তা কি হয়! তবে লিখতে গেলে তো প্রথমেই পত্রিকার পাতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সম্পাদক সাহেবের নির্দেশ, নির্দিষ্ট বাক্যের মধ্যে লেখা শেষ করবার।
আচ্ছা বলুন তো, বাবাকে নিয়ে লিখতে গেলে কি আর নিয়ম করে লেখা হয়। আজ কোন নিয়মের তোয়াক্কা নয়, বাবার দিন বলে কথা। অনেকের মুখে বলতে শুনছি, ভালবাসা নির্দিষ্ট দিনক্ষনে কেন? আমিও তাদের কথা ফেলত পারিনা, তবে একটি দিন বাবার জন্য একটু আলাদা করে উদ্যাপন দোষেরও তো কিছু দেখছি না। কে জানে হয়তো এতক্ষণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ই-মেইলে, ইন্টারনেট, ক্ষুদেবার্তায় বা কেক কেঁটে বাবাকে শুভেচ্ছা জানানোর ঝড় উঠেছে।
১৯০৮ সালের ৫ জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়াই প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। তবে, সেইদিন খুব একটা গুরুত্ব পায়নি এই আয়োজনের। নানা বিতর্ক জন্মদেয় দিবসটি ঘিরে। বাবা দিবস পালনের ধারণা মূলত ওয়াশিংটনের সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারীর। তবে সেই সময় ‘‘মা” দিবস নিয়ে অনেক মাতামাতি থাকলেও, বাবা দিবসটি খুব একটা গুরুত্ব পেত না। কিন্তু দুই বছর বাদে আবারও সনোরা স্মার্ট ডড নিজেস্ব উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন দিবসটি পালন করেন। ১৯১৯ সালে আমেরিকার সংসদে জাতীয় ভাবে বাবা দিবস পালনের বিল উত্থাপিত হয়। সেই সময়কার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ ১৯২৪ সালে বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। পরবর্তিতে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সরকারি ছুটি এবং বিশ্ব বাবা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন।
বাবা, তোমাকে নিয়ে ছেলেবেলায় হারিয়ে যাওয়া মানে সেই চিরচেনা আর্দশিক আবেশ। তুমি সব সময় বলতে, ক্লাশে ফাস্টবয় হবে একজন, কিন্তু ভাল ছেলে হতে পারে সবাই। তোমার কথার গুরুত্ব গাঁয়ে মাখিনি। আমি হারিয়েছি এপ্্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। তুমিই তো আমাকে দস্যিপানা শিখিয়েছ। আমাকে কখনই নিয়মে বাঁধোনি, আমি শিখেছি প্রকৃতির বুকে, তুমি শুনিয়েছ জীবনের গল্প। তুমি না বললে হয়তো কখনও আমার জীবনানন্দ, নজরুল, রবী ঠাকুরকে দেখা হত না। তোমার মুখে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধো, কর্ণেল এ জি ওসমানীর মুক্তিযোদ্ধের অবদানের গল্প, শহীদ মিনারে প্রভাতফেরী, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আর জাসদ ছাত্রলীগের মিটিং, মেনন গ্রুপ-মতিয়া গ্রুপের বাম সংগঠনের ইতিহাস। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন সবই আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। মাগুরার আকবরিয়া বাহিনী আর আবু মিয়ার ইতিহাস, মন্ত্রীবাড়ীর রজকীয় জীবন, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বের গল্প। আমি দেখিনি সাংবাদিক বজলুর রহমানের সংবাদ পত্রিকার পাতা। আমি দেখেছি শুধু তোমায়। তোমার শিক্ষকত, আইন পেশা আর সাংবাদিক হিসাবে নিজের সততা আমাকে গর্বিত করে। সাংবাদিকতার বিশেষ অবদান স্বরপ খুলনা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেডিপিএস) পদক সম্মাননা আমার চোখের জ্বল আনন্দ অশ্রুতে রুপদেয়। তারপরও তোমার পাগল ছেলের দায়ছাড়া সামান্য পাগলামী। এই ব্যস্ত নগরীতে, ১৭২ কিলোমিটার দূরত্বে তোমাকে নিয়ে ভালবাসা আঁকা চারটে খানিক কথা নয়? যখনই আমার প্রেমের শহর মাগুরায় ছুটে যাই আড্ডা, গান, প্রকৃতি আর জল জোছনার খেলার টানে, তখনই তোমার ¯েœহ, মায়া, উদ্বেগ আর নির্লোভ চেহারা আমাকে ভরিয়ে দেয়।
বাবা, আমার সাংবাদিকতার চাকুরী আর লেখালেখি “মা” কখনই মানতে পারেনি। কিন্তু তোমার নিরন্তর উত্সাহ আর অনুপ্রেরণাই আমার পথ আরো প্রশস্ত করে দেয়। তোমাকে যতবার ভালবাসতে চেয়েছি, ততবারই তো নিজেকে অবেহলার চাঁদরে মুড়েছ। তোমার মত প্রচার বিমুখ মানুষটিকে নিয়ে কিছু করবার সাধ্য যে কারও নেই সেটা স্পষ্টই। যে ভালবাসায় বেঁধেছ, তা ফেলে কোথাও পালাতে পারিনা। তোমার ঐ লাজুক, মায়াবী হাঁসির মায়ায় হারিয়েছি সারাবেলা। তোমার জন্য ভালবাসার বিন্দু আঁকতে গেলে, তুমি বৃত্ত এঁকে বসে থাকবার মানুষ।
তারপর, অত:পর, বারবার বলে যাই ভালবাসি তোমাকে। ধন্যবাদ বাবা, তুমি জন্ম না দিলে হয়তো তোমাকে নিয়ে লেখালেখি আর এই উপভোগ্য জীবনের সুযোগই যে মিলত না। তোমাকে বাবা দিবসে অজ¯্র শুভেচ্ছা। তোমার মত নির্লোভ, সততামাখা সাদামাটা জীবনের অধিকারী, শান্তিপ্রিয় মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। তোমার আলোই আজ আমি আলোকিত। সব সময় সুস্থ থাক, শতায়ু হও এবং তোমার জীবনের গল্পের সৌরভ ছাঁড়িয়ে যাক সবার অন্তরে অন্তরে।
সোহানুজ্জামান খান নয়ন
লেখক ও সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডিসেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages