আজকের পত্রিকাtitle_li=কৃষিtitle_li=মাগুরা মাগুরা থেকে শুরু হলো অন্যরকম এক সম্ভাবনা

মাগুরা থেকে শুরু হলো অন্যরকম এক সম্ভাবনা

 

মাগুরানিউজ.কম:

mn

মাগুরা থেকে শুরু হলো অন্যরকম এক সম্ভাবনা। মাগুরার আতিয়ার রহমান মোল্যার উদ্ভাবিত নতুন জাতের আম নিয়ে ২২ জুলাই ‘মাগুরানিউজ’ প্রথম একটি সংবাদ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে এটি নিয়ে দেশের প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমেই সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পাঠকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে ১ আগষ্ট সরজমিনে মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামে আতিয়ারের আল-আমিন নার্সার্রীতে গিয়ে দেখা গেলো নিজের উদ্ভাবিত আম গাছের একটু দুরেই দাড়িয়ে তিনি কয়েকজন লোকের সাথে কথা বলছেন।

এছাড়াও প্রায় এক ঘন্টা অবস্থানকালীন সময়ে দেশের একজন কৃষিবিদ সহ তিন নার্সারী মালিক ও শুধুই দেখার জন্য কৌতুহলি বেশ কিছু মানুষের আগমন ঘটলো।

উপস্থিত প্রতিটি মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছেন হাসিমুখে। তবে আম দর্শন করতে হবে দুর থেকেই, কারন হিসাবে তিনি জানালেন আমগুলোকে খাওয়ার উপযোগি করে তোলার জন্য ওগুলোকে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

জানালেন বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সপ্তাহ ধরে প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে আমগুলি দেখতে। প্রত্যেকেই হাত দিয়ে আমগুলি স্পর্শ করে দেখতে চান, আমের সাথে ছবি তুলতে চান। এতে আমের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই দুটি আম কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলেও জানালেন নতুন এই আমের উদ্ভাবক। আমগুলোর সঠিক আকার ও স্বাদ সহ পুরো ব্যাপারটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষিবিদদের পরামর্শে তিনি আমগাছটিকে ঘিরে রেখেছেন।

সত্যিই বিশ্ময়কর সেই প্রথম দর্শন। থমকে যাওয়া, সাথে অপূর্ব এক সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনকে দেখে গর্বিত হওয়া।

আতিয়ার ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, আম নিয়ে গবেষনা আরো উন্নত ও মানসম্মত করার জন্য আমগুলির পরিপক্ক হওয়াটা খুবই জরুরী। কারন তার উদ্ভাবিত এই আম সমৃদ্ধ করবে দেশের কৃষিকে তেমনটাই তাকে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

কৃষিবিদরা বলছেন বর্তমানে নানা গবেষনার মাধ্যমে আমের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে। তবে এত বড় আম এটাই প্রথম। নতুন উদ্ভাবিত এই আমের পর্যাপ্ত চারা তৈরী করা গেলে প্রচলিত আমের পাশাপাশি উন্নত জাতের এই আম চাষ করা গেলে মাগুরা ও পাশ্ববর্তী জেলাগুলো আম চাষের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে। বাংলাদেশের সবখানেই এ জাতটির চাষ করা যাবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামে আল-আমিন নামে এক নার্সার্রী রয়েছে আতিয়ার মোল্যার। সেখানেই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন আম নিয়ে তার গবেষনা। আতিয়ারের এই কাজ সম্পন্ন হলে আমের আরো বড় ও সুস্বাদু জাত উদ্ভাবনের দুয়ার খুলে যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সে কারনে আতিয়ারকে সবসময় সহযোগিতা করছে দেশবরেন্য কৃষিবিদরা, এমনটাই জানালেন চার কেজি ওজনের নতুন জাতের আমের উদ্ভাবক আতিয়ার।

এবছর তার গাছে ১১টি আম ধরেছে। প্রতিটির ওজন ৪ কেজির মতো হবে। সবচেয়ে বড় আমটি লম্বায় ১৩ ইঞ্চি, বেড় ১৮ ইঞ্চি। এই আম শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে পাকবে বলে জানান আতিয়ার রহমান। আমের রং ভালো ও স্বাদে কড়া মিষ্টি। মৌসুম ফুরিয়ে যাওয়ার পর এই আম পাকে বলে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে তিনি ‘মাগুরানিউজ’কে জানান।

জানালেন,আমের চারার জন্য প্রতিদিন লোকজন ভিড় করছেন। তিনি এখনই তাড়াহুড়ো করতে চান না। মাতৃগাছটি আরো বড় করে বংশবিস্তার করতে চান। এ বছর তিনি ২০টি চারা তৈরি করবেন ।

চারা ও আমের দাম সম্বন্ধে জানতে চাইলে আতিয়ার রহমান ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, দাম নিয়ে তিনি এখনো কিছু ভাবেননি। তবে এবছর তার গাছে যে ১১টি আম ধরেছে তার ১টি আম দশহাজার টাকা দিয়েও কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন অনেকেই। তবে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন না জানিয়ে বলেন, তার লক্ষ সারা দেশে এ আমের বিস্তার ঘটানো এবং আরো বড় আমের জাত উদ্ভাবন করা।

নতুন জাতের এই আমের উদ্ভাবনের পেছনের কথা জানাতে গিয়ে আতিয়ার রহমান ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, প্রতিবেশী ইব্রাহীম হোসেন ৬ বছর আগে ব্রুনাই থেকে আমের একটি শায়ন ডাল এনে তার বাড়ির আম গাছে কলম দেয়। ২ বছর পর সেই গাছে দেড় কেজি ওজনের কয়েকটি আম ধরে।

সেখান থেকে একটি শায়ন ডাল এনে আতিয়ার নিজের নার্সারীতে একটি ফজলী আমের গাছের সাথে কলম দেন। গত বছর ওই গাছে ২ কেজি ওজনের ৫টি আম ধরে। এতে তিনি আরো উৎসাহিত হয়ে আম গাছের ব্যাপক পরিচর্যা শুরু করেন। এতে তিনি আশাতীত ফল লাভ করেন। এবার গাছে ১১টি আম ধরেছে। প্রতিটির ওজন ৪ কেজি মতো হবে।

আমগুলো চলতি শ্রাবন মাসের শেষ দিকে পাকবে বলে জানান আতিয়ার। ইতিমধ্যে একটি আমে কিছুটা রঙ এসেছে।

আতিয়ার তার নতুন উদ্ভাবিত এই আমের নামকরন সম্বন্ধে ‘মাগুরানিউজ’কে জানালেন, তার পারিবারিক পদবী মোল্যা ও প্রতিবেশী ইব্রাহীমের কন্যা ইয়াসমিনের নামে নতুন জাতের আমের নাম রেখেছেন ‘মোল্যা-১ ইয়াসমিন’। 

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, চূড়ান্ত ফলনের পর ওজন পরিমাপ, মান পরীক্ষা করে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে এ গাছের বিস্তৃতি ঘটানোর ব্যবস্থা করা হবে। গত ২০ বছর ধরে আতিয়ার নার্সারী ব্যবসার করে আসছেন বলে জানালেন পার্থ প্রতিম সাহা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মে ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« এপ্রি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages