অপরাধtitle_li=আজকের পত্রিকাtitle_li=বাংলাদেশ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা; জঙ্গি খলিল জীবিত না মৃত!

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা; জঙ্গি খলিল জীবিত না মৃত!

মাগুরানিউজ.কমঃ

download২১ আগস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ১০ বছর পূর্তি হলেও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার্জশিটভূক্ত অন্যতম আসামি খলিলের বিষয়টি রহস্যময়ই রয়ে গেছে।নিজ বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের পর খলিলের আত্মগোপনের  সাত  বছর পার হলেও এখনও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকি তার সম্পর্কে তেমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই পুলিশের কাছে।

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বেজড়া গ্রামের জঙ্গি সদস্য খলিলুর রহমান এখন কোথায়? সে কি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে? খলিল জীবিত না মৃত তা নিয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। খলিলের বাবার দাবি সে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত হয়ে মারা গেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ সে জীবিত। 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইতিমধ্যে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়েছে। খলিল ধরা না পড়ায় এ মামলার অনেকটা রহস্যময়ই থেকে যাচ্ছে।  

তার বাবা সাইফুর রহমান জানান, তার ছেলে খলিল  ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বোমা বানানোর সময় নিজ ঘরে বিস্ফোরণে আহত হন। এ সময় সে নিজেই খরব দেয় খেলাফত মজলিস মাগুরা জেলা কমিটির সাবেক আমির মাওলানা মোকাদ্দেস হোসেনকে। তিনি একটি মাইক্রো নিয়ে এসে দ্রুত তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। 

এর দু’মাস পরে মওলানা মোকাদ্দেসের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন যে, গোপনে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় খলিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কবে মারা গেছে। তবে বোমা বিস্ফোরণের পর পরই মওলানা মোকাদ্দেস তার আহত ছেলেকে নিয়ে কোথায় চিকিৎসা করিয়েছে কিংবা তার মৃত্যুর পর লাশই বা কোথায় দাফন করিয়েছে তা তিনি অদ্যাবধি জানেন না। খলিল মারা গেছে জেনেই তার স্ত্রী রত্নারও সম্প্রতি অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে বলে জানালেন তিনি। 

খলিলের বাবা তার ছেলেকে মৃত বলে দাবি করলেও তার এ মৃত্যুকে রহস্যজনক বলেই মনে করেন এলাকাবাসী। তাদের ধারণা খলিলকে পাওয়া গেলে আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার অনেক অজানা রহস্য উদঘাটন হতো। গ্রেনেড হামলা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সব আসামি ধরা পড়লেও খলিলের অন্তর্ধান বিষয়টি তাদের কাছে পুরো রহস্যময়ই রয়ে গেছে।মহম্মদপুরের বেজড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুর রহমানের ছেলে খলিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দাখিলকরা চার্জশিটভূক্ত আসামি। 

সিআইডি’র একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এ গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৮ সালের ১১ জুন অভিযোগ পত্রে খলিলসহ ২২জনকে অভিযুক্ত করেন। 

এলাকাবাসী বলেছে, তারা যতটুকু দেখেছে তাতে মৃত্যু হওয়ার মতো আহত হয়নি খলিল। খলিলের নেতা মওলানা মোকাদ্দেস র‌্যাবের হাতে বন্দি হয়েছে অনেক আগে। খলিলের মারা যাওয়ার বিষয়ে সে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। মোকাদ্দেসের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‌্যাব অস্ত্র উদ্ধার করলেও খলিলের বিষযটি সে কিছুই বলেনি। এটা অনেকের কাছেই রহস্যময় মনে হচ্ছে। 

এছাড়া মাঝে-মধ্যে গভীর রাতে মাইক্রোবাসে করে বোরখা পরে গোপনে মায়ের সঙ্গে দেখা করে যায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশি এ প্রতিবেদকে জানিয়েছে।   

এলাকাবাসী আরো জানায়, খলিল ২০০৪ সালে মাগুরার সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করে। ওই বছরই সে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেয়। মাগুরার সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসায় পড়ার সময় তিনি জেএমবি নেতা মওলানা মোকাদ্দেসের সান্নিধ্যে আসে। মোকাদ্দেসের উৎসাহে তিনি বোমা বানানোসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে তার একটি হাত এবং একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।  

গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন সূত্র এবং এলাকাবাসী জানায়, মওলানা মোকাদ্দেস জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাবন্দি মুফতি আবদুল হান্নানের মামাত ভগ্নিপতি। মূলত মুফতি হান্নান কারাবন্দি হওয়ার পর মওলানা মোকাদ্দেসের নেতৃত্বেই খেলাফত মজলিশের কর্মীরাই মাগুরা জেলায় হরকাতুল জিহাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। 

মুফতি আবদুল হান্নান মাগুরা সদর উপজেলার মঘী গ্রামের আনসার আলী মোল্যার জামাই। এ এলাকায় শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সুবাদে ১৯৯২ সালের পর থেকেই  জেহাদি এজেন্ডাসহ সরাসরি আত্মপ্রকাশের পর পরই মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শক্ত ঘাঁটি তৈরিতে সক্ষম হয় এ জঙ্গি সংগঠনটি। মুফতি হান্নান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মওলানা মোকাদ্দেসের তত্ত্বাবধানেই হরকাতুল জিহাদের কার্যক্রম চলতে থাকে।

কিন্তু মওলানা মোকাদ্দেস ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবর র‌্যাব সদস্যদের হাতে আটক হন। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তার স্বীকরোক্তি মতে নহাটার খাড়ার বিলে মাটির নীচে পূঁতে রাখা দু’টি চাইনিজ রাইফেল, দু’টি শক্তিশালী বোমা, সেনাবাহিনীর দুই সেট ইউনিফর্ম এবং প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে। 

এ ব্যাপারে দায়ের করা দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মোকাদ্দেস বর্তমানে কারাগারে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, খলিলের অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গি সদস্য খলিল এলাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।খবর-বাংলানিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

রাজনীতি

অর্থনীতি