স্বাস্থ্য শিশুর দাঁত ওঠা-পড়া এবং মাড়ির যত্ন ।

শিশুর দাঁত ওঠা-পড়া এবং মাড়ির যত্ন ।

teeth chandpur newsবাচ্চাদের দুধ দাঁত ওঠা এবং পড়ার সময় দাঁত ও মাড়ির যতœ নেওয়া জরুরি। কীভাবে করবেন জেনে নিন।

আমাদের দু ধরনের দাঁত আছে। দুধের দাঁত বা Deciduous teeth এবংPermanent teeth|

  • দাঁতের ক্রমিক পর্যায়
  • Pre Deciduous teeth- দাঁত ওঠার আগে (৬ মাসের আগে)
  • Deciduous Dentition period- দুধের দাঁতের সময়, অর্থাৎ ৬ মাস থেকে ৬-৭ বছর।
  • Mixed dentition period- ৬-৭ বছর থেকে সাড়ে এগারো বছর পর্যন্ত।
  • Permanent dentition period- ১২ বছর বয়স থেকে।

জেনে রাখুন শিশুদের দাঁতের স্বাস্থরক্ষায় আমাদের কি করা উচিৎঃ-

Pre Deciduous teeth (দাঁত ওঠার আগে) মানে রাখবেন শিশুদের দুধ খাওয়ানোর পর ভালভাবে মুখ ধোয়াবেন। এবং পেট ভরে জল খাওয়াবেন। তাহলে মুখের ভেতর যে সমস্ত খাবার আছে তা ধুয়ে পেটে চলে যাবে এবং হজমে সাহায্য করবে। দুধ খাওয়ানোর পর একটা পরিস্কার কাপড়ের টুকরো গরম জলে ডুবিয়ে বাচ্চার মুখ ভালোভাবে মুছে দিবেন। রোজ দিনে দুইবার এইভাবে করলে বাচ্চার মুখের ভেতরে কোন খাবার জমে থাকতে পারবেনা। বাচ্চার মুখে কোন রকম ঘা দেখা দিলে সেই ঘায়ে মধু লাগিয়ে দিতে হবে। খুব তাড়াতাড়ি ঘা শুকিয়ে যাবে।

Deciduous Dentition period  (দুধের দাঁতের সময়) ৬ মাস থেকে শিশুদের দাঁত উঠতে শুরু করে। এই সময় শিশুদের একরকম মাড়ির সমস্যা দেখা দেয়। মাড়ি ফুলে যায়, এবং খুব ব্যাথা হয়। মেডিকেটেড লোশন লাগালে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। না কমলে ডাক্তার বাবুর পরামর্শ নিবেন। ৬ থেকে ২৪ মাস, শিশুদের যে সময় দুধের দাঁত ওঠে সে সময় নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন জ্বর, পেট খারাপ, অকারন কান্না ইত্যাদি। এই সময়টাকে বলে ঃববঃযরহম ঢ়বৎরড়ফ। এ সবের জন্য অযথা অ্যান্টিবায়টিক দিবেন না। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়ালে উপকার পাবেন। মাড়িতে মেডিকেটেড লোশন লাগালে ব্যাথা এবং ফোলা কমবে।এই সময় কয়েক রকমের মাড়ির রোগ দেখা যায় যা অনেকদিন ধরে শিশুকে কষ্ট দেয়। এইসব ক্ষেত্রে শিশুদের ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয় লোশন বা জেল এবং ভিটামিন সি দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। আবার ৫ বছরের শিশুদের অন্য রকম সমস্যা দেখা যায়। যাকে বলে প্রাইমারি হারপিক্স সিমপ্লেক্স য একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই সময় শিশুদের মাথা ধরে, জ্বর হয়, মুখে দানা উঠে, খেতে চায় না। ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সিরাপ, প্যারাসিটামল সিরাপ ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয় লোশন লাগালেই উপকার পাওয়া যাবে।

Mixed dentition period- (৬-৭ বছর থেকে সাড়ে এগারো বছর পর্যন্ত) এই সময় শিশুদের মাড়ির অন্য রকম সমস্যা দেখা দেয়। দুধের দাঁত এই সময় পড়তে থাকে। আবার সেই যায়গাতে নতুন দাঁত উঠে। এই সময় দেখা দিতে পারে বৎঁঢ়ঃরড়হ মরহমরারঃরং। এছাড়াও মুখের নানা যায়গায় ছোট ছোট ঘা দেখা দেয় যাকি বলে অ্যাপথাস আলসার। আশেপাশের মাড়ি ফুলে থাকে, খুব ব্যাথা হয়। এই রোগের সঠিক কারন যানা যায়নি। তবে অনেকে বলে খাবার ঠিক মত হজম না হলে, ঠিকমত ঘুম না হলে অতিরিক্ত চিন্তা করলে এই রোগ হতে পারে। যায় হোক না কেন মেডিকেটেড লোশন বা জেল ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি খুব ভাল কাজ দেয়।

Permanent dentition period- (১২ বছর বয়স থেকে) বাচ্চাদের এই সময় একটা হরমোনের পরিবর্তন আসে যার কারনে মাড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাকে বলে হরমোনাল জিনজিভাইটিস। মাড়ি লাল হয় এবং নরম হয়ে ফুলে যায়। দাঁত মাজার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। এই সময় মাড়ির যতœ করতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এই সমস্যা বেশি দিন ধরে চললে হরমোনের চিকিৎসা করতে হবে। শিশুর মুখের ভেতরটা পরিস্কার না করলে দাঁতের উপর হলুদ আস্তরণ পড়ে যাকে বলে ডেন্টাল প্লাক। এই প্লাক থেকেই মাড়ির বিভিন্ন রোগ হয় যাকে বলে জিনজাইভাল প্লাক। আবার cariogenic bacteria  থেকে দাতেcarriesহয়| চলতি কথায় যাকে আমরা পোকা বলি।

ডাঃ রাহুল মিত্র

বিডিএস, এমপিএইচ, এমবিএ

 এসিসট্যান্ট প্রফেসর, এসআইএমটি

 চেম্বারঃ আল হেলাল স্পেশ্যালাইজড হাসপাতাল লিঃ

মিরপুর ১০, ঢাকা ১২১৬

মোবাইলঃ ০১৭১২ ৬৮০০৮৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অক্টোবর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« সেপ্টে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা