হোম মাগুরায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের পতাকা তৈরি করলো আমজাদ হোসেন

মাগুরায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের পতাকা তৈরি করলো আমজাদ হোসেন

140609-Magura-04_Sportsমাগুরানিউজ.কম: বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আমজাদ হোসেন নামের এক কৃষক। প্রায় ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের বিশাল পতাকা তৈরি করে রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন

জার্মান ফুটবলের এই ভক্ত। মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে আমজাদ হোসেন (৬৫)। পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। ১৯৮৭ সালে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। সেই সময় চিকিৎসার জন্য অনেকের কাছে গেছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। অবশেষে জার্মান থেকে আনা ওষুধ সেবনের পরই তিনি আরোগ্য লাভ করেন। তারপর থেকেই জার্মান ফুটবলের ভক্ত হয়ে গেছেন তিনি।

যার বহিপ্রকাশ হিসেবে আমজাদ হোসেন নিজ খরচে তৈরি করেছেন এই পতাকা। যা নিয়ে এখন গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি জড়ো করছেন নিজ দলের সমর্থকদের। আমজাদ হোসেন একজন খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক। অথচ ৩ হাজার ৫৫০ গজের বিশাল দৈর্ঘের এই পতাকা তৈরিতে তিনি ব্যায় করেছেন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

যার খরচ যোগাড় করতে বিক্রি করতে হয়েছে তারই ৫০ শতক আবাদি জমি। আমজাদ হোসেন জানান, পতাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথম তার গ্রামের এলাহির কাছে ২০ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু সেই টাকার অধিকাংশই অন্যকাজে খরচ হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় তার ভাতিজা মিজানুরের কাছে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। যার ভেতর থেকে দেড় লক্ষ টাকা ব্যায় করেছেন এই পতাকা তৈরির জন্য।

তিন কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই পতাকা তৈরির জন্য তিনি শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সাইদ মোল্যা নামে ৩ জন দর্জিকে এই কাজে নিয়োগ করেন। যাদেরকে মজুরি হিসেবেই দিতে হয়েছে অন্তত ৪০ হাজার টাকা। তবে টাকার বিষয় নিয়ে তিনি মোটেই চিন্তিত নন। তার দল বিশ্বকাপ জিতলে বরং আরো বেশি টাকা খরচ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। জার্মান ভক্ত আমজাদ হোসেন এখন নিজ দলের খেলা দেখবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। প্রথম রাউ-ের খেলাগুলোতে জার্মান দল ভাল ফল করলে তার তৈরি পতাকা নিয়ে মাগুরা ফরিদপুর মহাসড়কে বিশাল র‌্যালির আয়োজন করবেন।

সেক্ষেত্রে যে খরচ সেটিও তিনি ব্যয় করবেন। এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মির শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, আমি জার্মান দলের সমর্থক নই। কিন্তু আমজাদ হোসেনের উদ্যমকে শ্রদ্ধা জানাই। তিনি জার্মান ভক্তদের নিয়ে বড় র‌্যালি করতে চেয়েছেন। আমি সেই র‌্যালিতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই।

মাগুরার ইয়াং স্টার একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সৈয়দ বারিক আনজাম বারকি আমজাদ হোসেনের এই পতাকাকে দেশের সবচেয়ে বড় পতাকা হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলছে না।

অথচ সেই ফুটবল নিয়ে দেশের মানুষের যে মাতামাতি তাতেই প্রমাণিত হয় ফুটবল কতটা জনপ্রিয়। তবে আমজাদ হোসেনের মতো ফুটবল অন্ত প্রাণ মানুষের সংখ্যা আরো কিছু থাকলে এদেশের ফুটবল অনেক দূর যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডিসেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages