অর্থনীতিtitle_li=আজকের পত্রিকাtitle_li=কৃষি মাগুরায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রকল্প ব্যর্থ

মাগুরায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রকল্প ব্যর্থ

মাগুরানিউজ.কমঃ 
download (1)
মাগুরা জেলায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিও মৎসজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদফতর সরকারিভাবে জেলার চার উপজেলায় ৮টি অভয় আশ্রম প্রকল্প গ্রহণ করে, যা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।। অভয় আশ্রমে সময়মত ডিম পেড়ে মাছের বংশ বিস্তারের পাশাপাশি দেশী মাছের বিলুপ্তি রোধ করার উদ্দেশে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও বাস্তবে তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য ফিরে আসবে এ উদ্দেশে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় যা পানিতে গেছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ এ এলাকার জনগণের দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবিকা নির্বাহ নিশ্চিত করণ প্রকল্পের আওতায় এ অভয় আশ্রমগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্রোতে অভয় আশ্রমগুলো ভেসে যাওয়ায় এখন আর আশ্রমগুলো চোখে পড়ে না। মাগুরা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদীর মহম্মাদপুর উপজেলার বিনোদপুর সেতুর নিচে, সদর উপজেলার নবগঙ্গা নদীর আলোকদিয়া সেতুর নিচে, কুমার নদীর আঠারখাদা গ্রামে, পানিঘাটা সেতু এলাকায়, শ্রীপুর উপজেলা সদরে কুমার নদীর সেতু এলাকা, গড়াই নদীর কোদলা গ্রামে, শালিখা উপজেলার ফটকি নদীর হাজরাহাটি ও চুকিনগর গ্রামে এসব অভয় আশ্রম তৈরি করা হয়। প্রতিটি আশ্রমে ব্যয় করা হয় দেড় লাখ টাকা।
মোট ৮টি আশ্রমে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ জন উপকারভোগী ১ হাজার ৬শ মৎস্যজীবী জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাওয়ার কথা। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও তত্ত্বাবধানের অভাবে সরকারের এ প্রকল্প তেমন কোন উপকারে আসছে না অথচ সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে। উপকারভোগী ও মৎস্যজীবীরা হচ্ছে বঞ্চিত। বাস্তবায়িত হচ্ছেনা দেশী মাছের বিস্তার, ফিরে পাচ্ছে না নদ নদী জীববৈচিত্র্য। মৎস্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, দেশী মাছ বিশেষ করে পুটি, টেংরা, শৈল টাকি, রয়না, বাইম, জিয়েল, মাগুর, কৈ, রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল আইড়, চাপলে, যাতে নদীতে অবাধ বিচরণের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করতে পারে এবং ডিম পাড়ার মৌসুমে যাতে এসব অভয় আশ্রমে এসে ডিম পেড়ে বংশ বিস্তার করতে পারে সে উদ্দেশে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। দেশী মাছের বিলুপ্তি রোধ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর ভিতরে যেনতেনভাবে বাশের খুঁটি গেড়ে আড়া বেঁধে কচুরিপানা ও বিভিন্ন গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এসব অভয় আশ্রম। তা ছাড়া ডিম পাড়ার মৌসুমে চার মাস মাছ শিকার বন্ধ, কারেন্ট জাল, নেট জাল অথবা আড়বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধসহ নদীতে মাছ পরিচর্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মৎস্যজীবীদের সচেতন করার কথা থাকলেও এসব ক্ষেত্রে মৎস্য বিভাগের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। মৎস্যজীবীরা জানান, মৎস্য বিভাগ প্রথম দিকে কিছু উৎসাহ দেখালেও পরে তাদের কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি। ফলে অভয় আশ্রমগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ায় সরকারের পরিকল্পনা তেমন কোন কাজে আসেনি। 
মাগুরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর নন্দী বলেন, নদীতে মাছের অভয় আশ্রম তৈরি হওয়ায় দেশী মাছের বিলুপ্তি রোধ, জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ উৎপাদন বাড়ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান ভিন্ন কথা। তারা বলেন সরকারি অর্থে নেয়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহার না করায়, সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ পরামর্শে মৎস্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে এ প্রকল্প তেমন কোন কাজে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

রাজনীতি

অর্থনীতি