সম্পাদকীয় বিশ্বের ৭০ কোটি নারী বাল্যবিয়ের শিকার

বিশ্বের ৭০ কোটি নারী বাল্যবিয়ের শিকার

13_86818সারা বিশ্বে ৭০ কোটি নারী বাল্যবিয়ের শিকার। এছাড়া বিশ্বের ১৩ কোটি নারী প্রজনন অঙ্গহানির (এফজিএম) শিকার। সম্প্রতি ইউনিসেফ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ইউনিসেফের ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাল্যবিয়ের প্রচলন রয়েছে সারা বিশ্বেই। আর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশে ১৩ কোটির বেশি মেয়ে বা নারী কোনো না কোনোভাবে এফজিএমের শিকার। ইউনিসেফ তাই সতর্ক করে বলেছে, কালক্ষেপণ না করে এখনই প্রয়োজন নারীর প্রজনন অঙ্গহানি ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। এতে বলা হয়, দ্রুত নারীর প্রজনন অঙ্গহানি ও বাল্যবিয়ে রোধ করতে সবার সমর্থন একত্রিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার এবং ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো ‘গার্ল সামিট ২০১৫’ এর আয়োজন করেছে। প্রচলিত এ অভ্যাস দুটি বিশ্বের লাখ লাখ মেয়েশিশুকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইউনিসেফের উপাত্ত অনুযায়ী তিন দশকে এর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এ অগ্রগতির ধারা ধরে রাখা প্রয়োজন। যেসব দেশে এ বিষয় দুটি বেশি প্রচলিত যেসব দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করার জন্যই এটা করা উচিত।

প্রকাশিত উপাত্ত : আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশে যেখানে এ ক্ষতিকর কাজ প্রচলিত আছে, সেখানে ১৩ কোটিরও বেশি মেয়ে এবং নারী কোনো না কোনোভাবে এফজিএমের শিকার হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াও এফজিএম করানো হয় যে মেয়েদের, তারা দীর্ঘদিন ধরে রক্তপাত, সংক্রমণ, প্রজনন ক্ষমতাহীনতা ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে। বাল্যবিয়ের প্রভাব আরও প্রসারিত এবং ভুক্তভোগীদের সারাজীবন ধরে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। বিশ্বে ৭০ কোটিরও বেশিসংখ্যক নারীর বিয়ে হয়েছিল শৈশবে। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ২৫ কোটি নারীর বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর বয়সে। যে মেয়েদের ১৮ বছর বয়সে পা দেয়ার আগেই বিয়ে হয় তাদের স্কুলে থাকার সম্ভাবনা কম এবং পরিবারেই নির্যাতিত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। অল্প বয়সী মেয়েদের গর্ভবতী হওয়া এবং শিশু জন্মদানজনিত জটিলতায় ভোগার সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সীদের তুলনায় বেশি। এ বয়সের মায়েদের মধ্যে নবজাতকের মৃতাবস্থায় জন্ম হওয়া বা জন্মের পর প্রথম মাসের মধ্যে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সার্বিকভাবে বলা যায় যে, আজকের একজন কিশোরীর প্রজনন অঙ্গহানি হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ বছর আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম।

কেনিয়া এবং তাঞ্জানিয়ায় এ হার তিন দশক আগের তুলনায় কমে দাঁড়িয়েছে তিনভাগের একভাগ। এটা সম্ভব হয়েছে সামাজিক অংশগ্রহণ এবং আইনের যৌথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, ইরাক, লাইবেরিয়া ও নাইজেরিয়ায় এ সংখ্যা কমেছে প্রায় অর্ধেক। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টাচ্ছে; সম্প্রতি উপাত্তে দেখা গেছে, যেসব দেশে এফজিএম প্রচলিত সেসব দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে যে, এ রীতি বন্ধ হওয়া উচিত, কিন্তু প্রচ- সামাজিক চাপে পড়ে তারা তাদের কন্যাসন্তানদের ক্ষেত্রে এ রীতি চালিয়ে যান। কিন্তু এখন সমাজের সব অংশ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে লাখ লাখ মেয়ে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এ ক্ষতির শিকার হবে। তিন দশকের এ কমে যাওয়ার মাত্রা যদি অব্যাহত থাকে তবুও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শৈশবে বিয়ে হয়ে যাওয়া নারীর সংখ্যা ২০৫০ সালেও একই রকম থাকবে (৭০ কোটিরও বেশি)। এ কমে যাওয়ার মাত্রা দ্বিগুণ করা গেলে মেয়েদের বাল্যবিয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ৫৭ কোটি এবং ২০৫০ সালে ৪৫ কোটিতে কমিয়ে আনা যাবে। এফজিএম দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নারীর সংখ্যা (১৩ কোটিরও বেশি) মোটামুটিভাবে বর্তমান অবস্থার অনুরূপ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

রাজনীতি

অর্থনীতি