বাংলাদেশ আজ উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় নতুন বাজেট পেশ

আজ উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় নতুন বাজেট পেশ

ডেস্কঃআওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছে আজ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনঃনির্বাচিত সরকার আসন্ন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে তার ভবিয্যত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
গত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত আজ বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে পাওয়ার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাজেট পেশ করবেন।
মুহিত গতবছরের ৬ জুন আওয়ামীলীগ সরকারের গত মেয়াদের শেষ তথা পঞ্চম বাজেট পেশ করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে তিনি সরকারের আগের চার বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশপাশি ভবিয্যত উন্নয়ন পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন। সরকারের গত মেয়াদের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রতি সতর্ক থেকে এবারের বাজেট প্রনয়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উচ্চাভিলাষী হিসেবে নিজেকে দাবি করা ৮০ বছর বয়সী প্রবীন অর্থনীতিবিদ আবুল মাল আব্দুল মুহিত আগামীকাল যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন এটি হবে দেশের ৪৩তম এবং আওয়ামী লীগ সরকার উত্থাপিত ১৫তম বাজেট।
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেয়া মুহিতের দেশের অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনায় মাঠ পর্যায়ের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ সব অভিজ্ঞতাকে তিনি বাজেট প্রনয়নে ব্যবহার করেছেন। বিনিয়োগ তরান্বিত করে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আয় বৈষম্য কমিয়ে দারিদ্র বিমোচন করাই আগামী বাজেটের কৌশল হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি হ্রাসের মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ৮ শতাংশ এবং ১৭ সাল নাগাদ ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির ফলে প্রথম বছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযাযী প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠায় অর্থমন্ত্রী উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে আবারো আশাবাদী হয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতির গতিকে বেগবান করতে চান। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি অর্জনেও উচ্চভিলাষী স্বপ্ন দেখছেন।
এ জন্য নতুন বাজেটে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য থাকছে বিশেষ পদক্ষেপ। বাজেটে অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, কৃষি, মানবসম্পদ, শিল্প উদ্যোক্তাদের কর ছাড় দেওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বাজেটে কমানো হচ্ছে ভর্তুকির পরিমাণ। বাড়ানো হচ্ছে কৃষিঋণের আওতা।
ইতোমধ্যে তিনি সাংবাদিকদের একাধিকবার জানিয়েছেন এবারের বাজেটের আকার হবে আড়াই লাখ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর এটিই হবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অংকের বাজেট।
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের তুলনায় নতুন অর্থবছরের বাজেটের আকার প্রায় ২৭ হাজার ৮১২ কোটি টাকা বেশি।
আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত এডিপির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।
আসছে বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে এক লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এনবিআর-বর্হিভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার। কর-বর্হিভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হচ্ছে ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। এই ঘাটতি ব্যাংকঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের অর্থে মেটানো হবে। এজন্য লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে প্রণোদনা দিতে বেশ কয়েকটি খাতে বড় ধরনের কর ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানীর ক্ষেত্রে করপোরেট করের হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর করপোরেট করহার ৫ শতাংশ কমানো হচ্ছে।
অন্যদিকে নতুন করসহ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে আইন সহজ করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বাজেটে। এবারের বাজেটে পরিবেশ রক্ষায় ‘গ্রিণ ট্যাক্স’ নামে নতুন কর আরোপের ঘোষণা থাকতে পারে। মূল্য সংযোজন কর খাতে এই কর আদায় করা হবে। প্রস্তাবিত করহার হবে এক শতাংশ।
কর আদায় বাড়াতে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায় অর্জিত আয়কে করের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে ১৭টি খাত কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছে। এদের মেয়াদ আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে।
এদিকে আগামী বাজেটে নিত্যপণ্য ছাড়া প্রায় সবক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে এনবিআর। সংসদে অনুমোদিত নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য সংকুচিত ভিত্তি মূল্যে বিশেষ সুবিধার আওতায় কয়েকটি খাতে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হচ্ছে। আসছে বাজেটে এক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব থাকতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। আর এতে বেশ কিছু দ্রব্য ও সেবার দাম বেড়ে যেতে পারে।
আগামী অর্থবছওে মোট জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। এই ঘাটতি চলতি অর্থবছরে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ঘাটতি বাড়বে প্রায় ১২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার। এই ঘাটতি জিডিপির হিসাবে ৫ দশমিক শুন্য ৫ শতাংশ।
সূত্র জানায়, বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস থেকে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৪০ হাজার ৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উ॥সের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত হবে ৩১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা জোগান দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির হিসাবে ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এনবিআর-বর্হিভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।
বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। ব্যয়ের একটি বড় অংশ খরচ হবে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খাতে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাত এই তিনটি শ্রেনীতে বিভাজন করে বাজেটের সামগ্রিক ব্যয় কাঠামো ঠিক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ডিসেম্বর ২০১৭
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

Pages